| বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
পুরনো ছবি।
নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩ সালের ১ বৈশাখ আগামী ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার। পুরাতন বছরের বিদায়ের সাথে নতুন বছরের আগমনী নিয়ে আসে অপার সম্ভাবনা ও স্বপ্ন। নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে মানুষ ভুলতে তার হতাশা, ব্যর্থতা আর অপ্রাপ্তিকে এবং প্রাপ্তির নতুন স্বপ্ন বুনে।
বাংলা নববর্ষ তাই বাঙালির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে যার যেমন সাধ্য, সেভাবে উদযাপন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। আধুনিকতার ছাপ দিতে গিয়ে সনাতন ধারার বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ধারা অনেকটাই মুছে গেছে এবং এ উদযাপন হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠান প্রধান, যার সঙ্ড়ে আবহমান বাঙালি ঐতিহ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। সময়ের কাঠামোতে বন্দি মানুষ সময়ের সাথে মিল রেখে তাদের কল্পনার সমৃদ্ধিতে জীবন সাজাতে চায়।
সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রয়োজনে মানুষ সময়কে দিন, সপ্তাহ, মাস, বছরে ভাগ করেছে। নতুন বছরের আগমনে তারা অতীতের গ্লানি মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে কাজে নিয়োজিত করে নিজেদের। নতুন বছর মানুষের মনে সৃষ্টি করে নতুন উদ্দীপনা। তাই দেশে এবং প্রবাসে বাংলা নববর্ষকে বরণ করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সর্বজনীন কল্যাণ চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাংলাদেশের অধিবাসীরা নববর্ষের আয়োজনে ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের সীমারেখা মুছে অভিন্ন চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চিত্তকে নির্মল আনন্দে ভরে দিতে চায়।
বাঙালি জীবনে নববর্ষ এমন এক উপলক্ষ, যা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হলেও গ্রামে ও শাহরে প্রায় প্রতিটি পরিবারে পালিত হয়। নববর্ষ উপলক্ষে আগে ব্যবসায়ীরা হালখাতার আয়োজন করতেন এবং পুরোনো হিসাবকে নতুন খাতায় তোলার সাথে বকেয়া আদায় এবং তাদের ক্রেতা ও তাদের শুভাকাক্সক্ষীদের আপ্যায়ন করতেন। সীমিত আকারে হলেও এখনো এটি চালু আছে বাংলাদেশের মফস্বল এলাকায়। এছাড়া বৈশাখি মেলার আয়োজন করাও বাংলার প্রাচীন এক ঐতিহ্য, যা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবং বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
মেলাগুলোতে এখনো দেশীয় কুটির শিল্পজাত পণ্যের বিপুল সমারোহ ঘটে। গ্রামীণ বৈশাখী মেলা থেকে গ্রামের মানুষ গার্হস্থ্য জীবনের প্রয়োজনীয় পন্য সংগ্রহ করে। শহরে বৈশাখী মেলা বর্ণাঢ্য, যেখানে গ্রামীণ রূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও তা আনুষ্ঠানিকতা প্রধান হয়ে উঠে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী বর্ণাঢ্য আয়োজনে চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করে।
বাংলাদেশে বহু জাতি-গোষ্ঠীর লোকের বসবাস। প্রতিটি সম্প্রদায়ের রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম ও তার উৎসব। তবে নিজ নিজ ধর্মীয় পরিচয় ছাপিয়ে এ দেশের মানুষের সর্বজনীন পরিচয় বাঙালি হিসেবে এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষই পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এক চেতনায় উজ্জীবিত হয়। ফলে জাতিগত ঐক্য ও সংহতি দৃঢ় হয়। নববর্ষের শুভক্ষণে বাংলাদেশিরা ঐক্যবদ্ধ জাতীয় চেতনায় উদ্বদ্ধ হয়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথে বলীয়ান হোক। শুভ হোক নতুন বাংলা বছর। বার বার ফিরে আসুক বাংলা নববর্ষ।
Posted ১:১৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh